অবশেষে বাল্কহেডের ভেতরেই পাওয়া গেল নিখোঁজ শ্রমিক মোতালেবের লাশ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

নিখোঁজের ২দিন পর অবশেষে পাওয়া গেলো মেঘনায় বাল্কহেড ডুবির শ্রমিক মোতালেবর লাশ। শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে লাশ লাশটি বাল্ক হেডের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়। এরপূর্বে গত বুধবার রাত পোনে ১১টার দিকে মন্সীগঞ্জের গজারিয়ার সিমানা সংলগ্ন নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁর চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ সুরভী-৭ এর ধাক্কায় একটি বালুবাহি বাল্কহেড ডুবে শ্রমিক মোতালেব (৫৫) নিখোঁজ হয়। এসময় ডুবে যাওয়া বাল্কহেডে থাকা ৬জনের মধ্য ৫জন সাতঁরে উঠতে সক্ষম হয়। পুলিশ বলছে ময়না তদন্ত শেষে লাটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিখোঁজ মোতালেবের সন্ধানে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলছিল উদ্ধার অভিযান। কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা বেলা সাড়ে ১১ থেকে শুরু করে উদ্ধার অভিযান। শুক্রবার দিনভর উদ্ধার উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার কোন সন্ধান পাওয়নি উদ্ধারকারী কর্মীরা। অবশেষে গতকাল বাল্কহেডটি পানির নীচ থেকে টেনে তোলা হলে এর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে শ্রমিক মোতালেবের লাশ।
কলাগাছিয়া নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. জহিরুল হক বলেন, ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিলো যাত্রীবাহী লঞ্চ সুরভী-৭। পথে গত বুধবার রাত পৌঁনে ১১টার দিকে লঞ্চটি মেঘনায় চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে বালুবাহী বাল্কহেডকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে ৬ শ্রমিকসহ ডুবে যায় নৌযানটি। এদের মধ্যে সুকানি সবুজ (৩২), গ্রিজার মো. আক্তার (১৮), বাবুর্চি আব্দুল খালেক (৬৫) ও লস্কর ইমরান (২০) তীরে উঠতে সক্ষম হন। আর লস্কর মো. হৃদয় (১৮) লঞ্চে উঠে পালিয়ে যায়। নিখোঁজ লস্কর মোহাম্মদ মোতালেব ভোলার ঢুলারহাটের নুরাবাদ গ্রামের রফিজুল হক মিজির পুত্র।
এদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার ব্যাপরে একটি মামলা করলে উদ্ধার হওয়া সুকানি সবুজ (৩২), গ্রিজার মো. আক্তার (১৮), বাবুর্চি আব্দুল খালেক (৬৫) ও লস্কর ইমরান (২০) গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জহিরুল হক আরো জানান, লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। পোস্ট মর্টেমের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হচ্ছে। পোস্ট মর্টেম শেষে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।#