আগামী মার্চে পদ্মা সেতুতে চালু হচ্ছে রেল

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

রেল মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশ চালু করার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোন কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে ওই বছরের জুনের মধ্যে তা চালু করা হবে। দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী এ কাজ এখন এগিয়ে চলেছে। রবিবার দুপুরে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত রেল প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শণ শেষে মাওয়া রেল স্টেশন ক্যাম্পে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।
রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায়, সেতুর উপরে নীচের অংশে রেল লাইনের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে জুনে সেতু উদ্বোধনের পর জুলাই থেকে সেতুর উপর রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এ কাজ শেষ হতে প্রায় ৬ মাস সময় লাগবে। তাই সেতুর অংশ বুঝে পাবার আগে আমরা দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-মাওয়া-ভাঙা অংশের কাজ আগামী ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ চালুর পরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। কোন কারণে তা চালু করতে না পারলে ওই বছরের জুনের মধ্যে তা চালু করা হবে। তবে মূল প্রকল্প ঢাকা-ভাঙা-যশোর অংশ আগামী ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ করা হবে।
নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের রেল লাইন ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া চীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করা হচ্ছে এই প্রকল্পে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে নীচের অংশে রেলের কাজ করতে কোন অসুবিধা হবেনা। গাড়ীর ঝাকুনি বা কম্পনে রেলের কাজ বাঁধা গ্রস্ত হবেনা বলে বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে মত প্রকাশ করেছেন। তবে তা এখনও আনুষ্ঠানিকবাবে পাওয়া যায়নি। পরে মন্ত্রী মাওয়া থেকে পদ্মার অপর প্রান্তে মাদারীপুর কাঁঠালবাড়িতে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রেল প্রকল্প প্রধান মেজর জেনারেল এফএম জাহিদ, প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদ আহমেদ, রেলের ডিজি ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার প্রমূখ।#