দেশকে খাদ্য সংকটের হাত হতে বাঁচাতে ২ একর জমির ধন কাটলেন মুর্তুজার নের্তৃত্বে ছাত্রলীগ

99

মো. মাসুদ খান

হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড় আর বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা ধানের জমিতে জমতে শুরু করেছে পানি। করোনার কারণে দেশে চলছে শ্রমিক সংকট। যানবাহনের অভাবে শ্রমিকরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারছেনা। তার উপর আবার নতুন পানি আসার সময় হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি জমিতে পানি জমে যায় তবে কৃষকের পাকা ধান আর গোলায় তোলা হবেনা। এমনই যখন চিন্তা ভাবনায় কৃষকের মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে, অর্থিক ক্ষতি আর লোনের টাকা পরিশোধের কথা চিন্তা করে কৃষক যখন দিশেহারা- ঠিক তখনই লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছা গ্রামের প্রায় দুই বিঘা জমির পাকা ধান কেটে কৃষকের গোলায় তুলে দিলেন লৌহজং উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মর্তুজা খানের নের্তত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
করোনাকালে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গ থেকে কোনো শ্রমিক আসতে পারছেনা ধান কাটার এই মৌসুমে। পরিবহন সেক্টর বন্ধ থাকায় বেকায়দায় পড়েছে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষ ও কৃষককুল। বর্তমান ক্ষেতের পাকা ধান কৃষকের গোলায় তোলার মৌসুম। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে। সংগ্রহ করার সময় হয়েছে। এ এলাকায় ধান সাধারণত উত্তরবঙ্গের শ্রমিকরা কেটে থাকে কিন্তু এবার করোনার করণে পরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা আসতে পারেনি। তাই শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। অপরদিকে মাঝে মধ্যেই কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব। হঠাৎ হঠান বৃষ্টি। কখনও কখনও ভারী বর্ষণে আবাদী জমিতে জমে যাচ্ছে বৃষ্টির পানি। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকের পাকা ধান। পনি জমে যাওয়া ধানের কষতির সাথে যেমন কৃষক ক্ষতি আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেমনি দেশের সামগ্রিকও ক্ষতিও হবার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পরিস্থিতি যখন এমনটাই তখন কৃষকের পাশে এসে দাড়ায় উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুর্তুজা খান। তিনি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে উপজেলার মৌছা গ্রামের প্রায় ২ একর জমির পাকা ধান কেটে কৃষকের গোলায় তুলে দেন।
আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. মর্তুজা খান বলেন, আসলে করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারী। এই মহামারী করোনা ভাইরাসের ফলে বাংলাদেশের অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। মানুষ জন অসহায় হয়ে পড়ছে। আমরা অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর এক চেষ্টা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, আমাদের স্থানীয় এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এবং লৌহজং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ শিকদারের দিক নির্দেশনায় আমি দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ইতিপূর্বে আমি খাদ্য সামগ্রী সহায়তাও করেছি। এখন ধান কাটার সময় কিন্তু শ্রমিক সংকট হওয়ায় ধান ক্ষেতেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। তাই আমি পরিকল্পনা করি ধান কাটার। প্রথমে হারভেস্ট মেশিন দিয়ে ধান কাটার পরিকল্পনা করি। কিন্ত জমিতে পানি ও অসুসঙ্গিক কিছু অসুবিধার কারণে জমিতে মেশিন নামনো সম্ভব ছিলনা। তাই আমি উদ্যোগ গ্রহণ করে আমাদের এলাকার জমির ধান কেটে দিলাম। আমার সাথে যুক্ত ছিলো লৌহজং উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। আসলে আমদের সবারই উচিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই পরিস্থিতিতে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কৃষকের ধান গোলায় তুলে দেয়া মানে দেশের খাদ্য ঘাটতি হতে না দেয়া। দেশে খাদ্য ঘাটতি হলে তা আমাদের সকলের জন্যই ক্ষতিকর। তাই কৃষকের বিপদ মানে আমাদের বিপদ। সেই কথা মাথায় রেখেই আমি ও আমার নেতা-কর্মীরা দেশের এই দুর্যোগকালে কৃষকের ধান কেটে দিয়ে দেশকে খাদ্য সংকটের হাত হতে রক্ষা করেতে চেষ্টা করেছি মাত্র।#