দেশে গণতন্ত্র কিছুটা হলেও পরিপক্ক হয়েছে–ওবায়দুল কাদের

73

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি॥

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র কিছুটা হলেও পরিপক্ক হয়েছে। এটা একটা ধীরগতির প্রক্রিয়া, রাতারাতি বিকাশ হওয়ার সুযোগ নেই। আদালতের আদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ২০১১ সালেই বিদায় নিয়েছে। এটা মীমাংসিত বিষয়। উচ্চ আদালতই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে জাদুঘরে পাঠিয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসন সাইটসমূহে বরাদ্দকৃত প্লটের লিজ দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় এ কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচন চান। তাই কোনও বিশৃঙ্খলা না করে সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চান। কিন্তু, আপনাদের নেত্রী এক সময় বলেছিলেন, পাগল আর শিশু ছাড়া নিরপেক্ষ কেউ নেই। আপনারা নিরপেক্ষ বলতে যা বুঝেন সেটা হচ্ছে, আপনি নিরপেক্ষ তখনই থাকবেন যখন আপনি বিএনপিকে নিবাচিত হবার পুরোপুরি গ্যারেন্টি দিতেন তবেই নিরপেক্ষ হতো। এটাই হলো বিএনপির নিরপেক্ষতা। সরকারের এখানে নিরপেক্ষতার কোন বিষয় নেই। নিরপেক্ষ থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তখন নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগের মত সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলতে চাই নির্বাচন কশিশনের আন্ডারে স্বরাষ্ট্র আইন শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে ইলেকশন সংক্রান্ত সব কিছু এমনকি সেনাবাহিনী ট্রাস্কফোন তাদের আন্ডারে থাকে। সেটাও কিন্তু নির্বাচন কমিশন। কাজেই নিরপেক্ষ নিবাচন কমিশন হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপর আস্থা রাখেন, তিনি সবার সাথে আলোচনা করেই যাতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যাতে নিরপেক্ষ একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায়। নিশ্চয় সময় মত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবং পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিণ দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে। আমাদের গণতন্ত্র কিছুটা হলেও পরিপক্কতা পেয়েছে। গণগন্ত্র একটা ধীর গতির প্রক্রিয়া। রাতারাতি প্রতিষ্ঠানিক রূপ পাবেনা । আজকে গণতন্ত্র সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আপনারা পিছনে ফিরে যাচ্ছেন কেন?
পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার সোনালী ফসল পদ্মা সেতু। সেতু নির্মাণের আগে ছিল পদ্মার ভাঙনের তাণ্ডব। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে প্রমাণ করবো বাঙালি চুরি করে না, বাঙালি বীরের জাতি’।
পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর দুই প্রান্তে আধুনিক নাগরিক সুবিধা সংবলিত সাতটি পুনর্বাসন সাইট নির্মাণ করা হয়েছে। সাতটি পুনর্বাসন সাইটে মোট তিন হাজার ১১টি আবাসিক প্লটের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৯৬৩টি বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে ভূমিহীনদের ৮১৪টি প্লট বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট ১০০টি বাণিজ্যিক প্লটের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮১টি বরাদ্দ হয়েছে। ১২০টি বাণিজ্যিক স্পেসের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭২টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে।
প্লট প্রাপ্তদের নিজ নিজ প্লটের ৯৯ বছর মেয়াদি লিজ দলিল রেজিস্ট্রেশন ও দলিল হস্তান্তর কার্যক্রম গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত পুনর্বাসন সাইটগুলােতে প্লট বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনুকূলে এ পর্যন্ত ৮২৩টি প্লটের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৫৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মাঝে মোট ৭৩৩ দশমিক ৬০ কোটি টাকা অতিরিক্ত সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল এস এম জাহিদ হোসেন ও পদ্মা সেতুরর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পদ্মা সেতু নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়াম মো. আব্দুল কাদের, নির্বাহী প্রকৌশলী (নদী শাসন) সারফুল ইসলাম, লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো. ওসমান গণি তালুকদার, লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রশিদ সিকদার প্রমূখ।#