পদ্মা সেতুর মালামাল চুরির অভিযোগে সাবেক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

247

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

পদ্মা সেতুর মালামাল চুরির অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মো. জুলহাস হাওলাদার (৩৫) নামে এক সাবেক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে লৌহজংয়ের মাওয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন পদ্মা সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পদ্মা সেতুর ১০ নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে। নিহত জুলহাস হাওলাদার উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতু পুর্নবাসন প্রকল্পের মৃত হাসান হাওলাদারের পুত্র। জুলহাস গত ৬ মাস পূর্বে পদ্মা সেতুতে একজন কর্মী ছিল। বর্তমানে সে ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জুলহাসকে পদ্মা সেতুর কাজে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীরা চুরির অভিযোগে রড দিয়ে বেদম প্রহার করে। এ সময় সে গুরুতর আহত হয়। পরে খবর পেয়ে জুলহাসের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. রেজাউল হক জানান, সকাল ৯ টার দিকে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরবর্তীতে পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এরা সবাই পদ্মাসেতুর নিরাপত্তাকর্মী। আটক ব্যক্তিরা হলো, মো. সেলিম, মো. রাব্বি, তপু মিয়া, আল-আমিন হোসেন, আরিফ হোসেন, আব্দুল মান্নান ও ইসরাফিলসহ ১০ জন।
ওসি আরো জানায়, জুলহাস ৬ মাস পূর্বে পদ্মা সেতুতে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে সে আটো চালক। জুলহাসের পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেও আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তারা জানিয়েছে সকালে জুলহাস পদ্মা সেতুর ওই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে। এসময় তারা চোর সন্দেহে জুলহাসকে পিটিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত জুলহাসের মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আটক ১০ ব্যক্তিসহ আরো ১ জনকে আসামী করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত এমন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।#