মুন্সীগঞ্জে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলো প্রবীন সাংবাদিক রশীদ আহমদ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন মুন্সীগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক রশীদ আহমদ মামুন। সোমবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) এক বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। এসময় দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬৪ জন তৃণমূলের প্রবীন সাংবাদিকদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া দেশের ১১ জন খ্যাতিমান অনুসন্ধ্যানী সাংবাদিককে জুরি বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত করে তাদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা হিসেবে ১১ জন খ্যাতিমান সাংবাদিককের প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা ও ৬৪ জন প্রবীণ সাংবাদিকের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, ক্রেষ্ট, উত্তরীয় ও সদন প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদশে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিম, বসুন্ধরা মডিয়িা অ্যাওর্য়াড জুরিবোর্ডের প্রধান অধ্যাপক মোঃ গোলাম রহমান। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রæপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান।

রশীদ আহমদ তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, অবহেলিত মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য এটা একটা বড় পাওনা। বসুন্ধরা গ্রæপের এই আয়োজন এবং মূল্যায়ন নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবি রাখে। এটি অন্যান্য শিল্প গ্রæপের  জন্যও  অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। বর্তমান এই দুর্মূল্যের  বাজারে এবং ব্যক্তিগত আর্থিক দুরবস্থার সময়ে বসুন্ধরা গ্রæপের নিকট থেকে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা আমার সংসারে সহায়ক হবে। তবে অর্থিক সুবিধা বড় কথা নয়, আমরা তৃণমূলের সাংবাদিকরা সব সময় অবহেলিত। আমাদের সকাল সন্ধ্যা রাত নেই। যেকানেই সংবাদ, আমাদেও সেখানেই ছুটে যেতে হয়। অথচ কর্তৃপক্ষ আমাদেও নিয়ে তেমন একটা ভাবেনা। আজ বসুন্ধরা গ্রæপ আমাদের মফস্বল সাংবাদিকদের যে সম্মাননা দিলো তা দৃষ্ঠান্ত হয়ে থাকবে। সাংবাদিকতা বা বয়সের শেষ প্রান্তে এসে যে সম্মান পেলাম তাতে মনে হচ্ছে আমার দীর্ঘ বছরের সাংবাদিকতার স্বর্থকতা পেলাম। এজন্য বসুন্ধরাকে বিশেষ ধন্যবাদ না দিয়ে পারছিনা। ধন্যবাদ বসুন্ধরা গ্রæপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সাহেবকে। একই সঙ্গে ধন্যবাদ ও জানাচ্ছি এ অ্যাওয়ার্ডের পেছনে থেকে যারা কাজ করেছেন তাদেরকেও। প্রতিবছর বসুন্ধরা গ্রæপ তৃণমূলের সাংবাদিকদের এ ধরণের অ্যাওয়ার্ড দিয়ে তাদের উৎসাহিত করবেন বলে আমি বিশ^াস করি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের এমপি অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, বসুন্ধরা বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করলো। আমি তৃণমূলে কাজ করি, আমি জানি আমাদের মফস্বল সাংবাদিকরা কতটা কষ্ট করে সাংবাদ সংগ্রহ করে। তাদেও এ সম্মান দেওয়ায় বসুন্ধরা গ্রæপও সম্মানিত হলো। বসুন্ধরা গ্রæপের এ  প্রয়াস প্রতি বছর চালিয়ে যাবে বলে আমি বিশ^াস করি। ধন্যবাদ বসুন্ধ গ্রæপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরসহ বসুন্ধরা পরিবারকে।

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবকে সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক ‘সভ্যতার আলো’র সম্পাদক মীর নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, এটা একটা অভ্যন্ত ভাল উদ্যোগ। কারণ তৃণমূলে যেসকল সাংবাদিকরা কাজ করে তাদের স্বীকৃতি দেয়া হলো। যা বিরল ঘটনা। এতে তৃণমূলের সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরী হবে। যা স্থানীয় উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ, পরিবেশ সমস্যা ও সম্ভবনাসহ নানাবিধ বিষয় মিডিয়ায় বস্তু নিষ্ঠভাবে ফুটে উঠবে। এতে নানাভাবে উপকৃত হবে এলাকার মানুষ। বসুন্ধরা ব্যবসা-বানিজ্যের গন্ডির বাইরে গিয়ে এমন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে ভিন্নমাত্রা তৈরী করেছেন। যা অন্যদেরকেও অনুপ্রাণিত করবে। কিন্তু প্রথমবারের মত দেশব্যাপি গুণি সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করে অগ্রগামী হয়ে থাকলো বসুন্ধরা। ধন্যবাদ বসুন্ধরাকে।

সাংবাদিক রশীদ আহমেদের বাড়ী মুন্সীগঞ্জের শহরের পূর্ব দেওভোগ এলাকায়। তার পিতা আধ্যক্ষ আব্দুল বাসেত মিয়া। মাতা রওশন আরা বেগম। বিএ বিএড পর্যন্ত তিনি লেখা পড়া করেছেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ অবর্জারভার পতিকার চিঠি পত্র কলামে লেখা শুরু করেন। এভাবে তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বছর চিঠি পত্র কলামে চাঁদপুরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি দি ডেইলি স্টার পত্রিকায় মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পতিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধির পায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি দি বাংলাদেশ টুডে পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন।#