মুন্সীগঞ্জে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের দৃশ্যপট বদলে গেছে

113

নিজস্ব প্রতিবেদক

এইতো কয়েক বছর আগের কথা। যে কেউ প্রবেশ করতে পারত কলেজে। শিক্ষার্থীদের ছিলো না কোনো বিধি নিষেধ। বাধ্যতামূলক ছিলো না কোনো ক্লাশ। শিক্ষা পাঠদানের সময় কলেজ মাঠে বেজে উঠত গিটারের শব্দ। সে সাথে উচ্চস্বরে গানের আওয়াজ। প্রতিষ্ঠানের ভিতরে অনেকেই করত ধুমপান। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিধি নিষেধ না থাকায় মেয়ে শিক্ষার্থীরাও অনিশ্চয়তায় থাকত। বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে বদলে গেছে মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের দৃশ্যপট। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে পুরো প্রতিষ্ঠানে।

নতুন একাডেমি ভবন, নতুন ছাত্রাবাস এবং কলেজের মনোরম পরিবেশ যেন মানুষকে আকৃষ্ট তার সৌন্দর্য দিয়ে। শিক্ষার মান বজায় রেখে ২০১৮ সালে অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হাই তালুকদার এর নের্তৃত্বে কাজ করে যাচ্ছেন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষকরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজ শৃঙ্খলার মধ্যে চলে এসেছে। ঠিক তেমনি শিক্ষার মান হয়েছে উন্নত। পাশের হার বেড়েছে দেরগুণ। এছড়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে ৮০ শতাংশ। যা বিগত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে রাখা হয়েছে তিনজন কর্মচারি।

কলেজ সূত্রে যানা গেছে, ১৯৩৮ সালে ১৮ ডিসেম্বর স্যার আশুতোষ গাঙ্গুলী কলেটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্সে প্রায় ১০ হাজারও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। অনার্সে রয়েছে ১৫টি বিভাগ। মাস্টার্সে ৯টি। ৬টি একাডেমি ভবন। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে তিনটি ছাত্রাবাস। যার একটি নির্মাণাধীন। এছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। যার মধ্যে থাকবে অফিস, কলেজ ক্যান্টিন এবং বিভিন্ন বিষয়ের বিভাগ।

সরজমিনে কলেজে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখা গেছে- দুইজন বিএনসিসি ছেলে ও দুইজন রোডার মেয়ে সদস্য প্লাস্টিক স্ট্রিপ থার্মোমিটার দিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক এর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে কলেজে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। করোনা সংক্রমন রোধ করতে এমন উদ্দ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসময় অধ্যক্ষসহ ৪-৫ জন শিক্ষক কলেজের নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করছে। এছাড়া বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশ বন্ধে গেটে রাখা হয়েছে দু’তিনজন কর্মচারী। একটু ভিতরে গিয়ে আরো চোখে পড়ে স্যার আশুতোষ গাঙ্গুলী ভবনের এক কোনায় হাত দোওয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে সগযোগিতা করছে অপর দুই কর্মচারী। অফিস ভনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার। যা ব্যবহার করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। তাছাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে পুরো কলেজটি। নতুন করে দেয়াল দিয়ে বাঁধা হয়েছে কলেজ পকুর পাড়। সে সাথে রাস্তাও প্রশস্থ করা হয়েছে। কলেজে রয়েছে দুটি খেলার মাঠ। এছাড়া পুকুরের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৫ তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ছাত্রাবাস ও নির্মাণাধীন ১০ তলা একাডেমি ভবন। কলেজে রয়েছে নানান রকম ফুল ও ঔষধি গাছ। যা ব্যবহার করে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিক্ষা দিচ্ছে। রয়েছে ঐতিহ্যবাহী জামতলা চত্ত্বর। এখানে বসে কলেজের নানান আয়োজন।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে কথা হয় একাধিক অভিভাবকের সাথে। তারা বলেন, বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমানে শিক্ষার মান ও পাশের হার অনেকটাই বেড়েছে। দীর্ঘদিন পরে কলেজটি শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মু. আবু সাইদ বলেন, আগে কলেজে যে কেউ প্রবেশ করতে পারত। এখন তা সম্ভব নয়। শিক্ষার পরিবেশ ও কলেজের সার্বিক উন্নত হয়েছে।

শিক্ষা ও উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে শিক্ষকদের সমন্বয়ে কলেজে শিক্ষার মান ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে কলেজ সিসি ক্যামেরায় অন্তরভুক্ত, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার স্থাপন, পুকুর পাড় দেয়াল দিয়ে বাউন্ডারী, ১০ তলা একাডেমি ভবন ও ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রবাস সহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। শিক্ষার গুণগত মান অতীতে ৫৭% পাশের হার ছিল। যোগদানের পর থেকে কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় পাশের হার ৭৩% এ উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীরে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুটি বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের হাত সাবান দিয়ে দোওয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ প্রফেসার আব্দুল হাই তালুকদার যোগদানের পর থেকে শিক্ষার মান অতীতের চেয়েও অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।