লৌহজংয়ে এবা গ্রুপের উদ্যোগে ২০০ বিঘা জমির জলাবদ্ধা দূর

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ২০০ বিঘা জমির জলাবদ্ধতা দূর করে কৃষকের মাঝে হাসি ফুটাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে গত কয়েক বছর ধরে অনাবাদি পরে থাকা এসকল জমিতে ২০ হাজার মণ ইরি ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান এবা (abba) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান রিপন মৃধা বিষয়টি জানতে পেরে ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে অনাবাদি এসকল জমি চাষাবাদের উপযোগি করতে নিজ অর্থায়নে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরী করে জলাবদ্ধা নিরসনে কৃষকের পাশে এসে দাড়িয়েছে। তাঁর এ উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া, কারপাশা, নাগেরহাট ও কাজলপুর বিলের প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে গত কয়েক বছর ধরে পানি আটকে জলাবদ্ধতার মধ্যে ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ধান রোপনের মৌসুমে সময় মতো জমি পরিষ্কার ও বীজ বপন করতে পারছিলনা। এ অবস্থায় কৃষকরা এ বছরও চিন্তিত হয়ে ধরেই নিয়েছিল- হয়তো এ বছর সময় মতো তাঁরা ধান রোপন করতে পারবে না। তাঁদের এ সকল জমি অনাবাদিই থেকে যাবে। বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে জানতে পেরে বিশিষ্ট শিল্পপতি এবা গ্রুপ ও ডাচ ডেইরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান রিপন মৃধা তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় পানি নিষ্কাশনের জন্যে পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করেছেন। রাস্তা কেটে রাস্তার নিচ দিয়ে কংক্রিটের পাইপ বসিয়ে বিলের পানি বের হবার ড্রেনেজ তৈরী করে আবার রাস্তা মেরামত করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই আটকে থাকা পানি বের হতে শুরু করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মাধ্যে কৃষকরা তাঁদের জমির জন্য বীজ রোপন ও আবাদ শুরু করতে পারবে। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও কৃষকরা এমন মহান উদ্যোগ নেওয়ায় জিল্লুর রহমান রিপন মৃধাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।


কারপাশার কৃষক লাল মিয়া জানান, বিল থেকে বর্ষা শেষে পানি বের হবার খালের মুখগুলো পলি পরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ৩ বছর যাবৎ জমিতে ঠিকমত ধান চাষ করতে পারছিলামনা। বিলের পানি জমি থেকে বের না হওয়ায় ধানচাষ ব্যাহত হচ্ছিল। এখন এই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করায় আবারো জমিতে ধান লাগতে পারবো। এতে খুব ভাল লাগছে।
এই পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায় উৎফুল্ল হলদিয়ার কৃষক মুজিবর রহমান বলেন, এই বিলে এক সময় প্রচুর ইরি ধানের চাষ হতো। বিলের চারিদিকে এক এলাকা হতে অন্য এলায় যাবার জন্য রাস্তা হয়েছে। কিন্তু এই রাস্তা করার সময় বিল থেকে পানি বের হবার জন্য কোন প্রকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় বিলটি একটি বেরিবাধ এলাকার মধ্যে পড়ে যায়। এতে বর্ষার পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। গত ৩-৪ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে ধান চাষ করতে পারছিলামনা। এবা গ্রুপ এই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে আমাদের বিরাট উপকার করে দিলেন। সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের উচিৎ দেশ ও দশের সেবাই এবা গ্রুপের মত এগিয়ে আসা।


এই বিল থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মণ ইরি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অনেক কৃষক উক্ত বিলের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আগেই ব্যক্তিগতভাবে জলাবদ্ধতার সমাধান করায় রিপন মৃধাকে ধন্যবাদ জানাই।
এ ব্যাপরে এবা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান রিপন মৃধা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশে^ খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও হয়তো এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আসন্ন বিশ^ খাদ্য সংকটের প্রভাব জেনো বাংলাদেশে না পরতে পারে সেই ভাবনা থেকেই জলাবদ্ধ হয়ে থাকা অনাবাদি এসকল জমি থেকে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে আবাদের যোগ্য করার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে শুধু কৃষকেই উপকৃত হবেনা। বরং এটি বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা ধরে রাখতে সামন্য হলেও সহযোগিতা করবে।#

কাপশন- লৌহজংয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রেনেজ তৈরী