লৌহজংয়ের একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল নিন্মমানের

897

কাজী আরিফ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের একমাত্র সরকারী হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবার ভাল হয়নি। মাত্র ২টি বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয় বাদে সব ক’টি বিদ্যালয় এ বিদ্যালয় থেকে ফলাফল ভাল করেছে। ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারী এ বিদ্যালয়ের অবস্থান ১০ম এ নেমে এসেছে। সরকারী বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হওয়ায় এ নিয়ে এলাকাবাসী মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এবছর লৌহজং হতে মোট ১২টি উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসিতে অংশ গ্রহন করে। এর মধ্যে কাজির পাগলা এটি ইনষ্টিটিউশ-এর গড় পাশের হার ৯৮.১৫। কোন জিপিএ-৫ না পেলেও উপজেলায় বিদ্যালয়টির অবস্থান ১ম স্থানে রয়েছে। এর পর ১টি জিপিএ-৫ ও ৯২.৪৫ গড় পাশের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পয়সা উচ্চ বিদ্যালয়। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি ৯১.৯২ গড় পাশসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮টি। লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কোন জিপিএ-৫ ছাড়া ৯১.১৪ গড় পাশ নিয়ে ৪র্থ অবস্থান করেছে। ১টি জিপিএ-৫ ও গড় পাশ ৮৩.২১ নিয়ে ৫ম অবস্থানে রয়েছে ব্রক্ষ্মনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়। খিদিড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ৭৬.২৭ গড় শাপ ও ৩টি জিপিএ-৫ নিয়ে ৬ষ্ট অবস্থানে রয়েছে। হাড়িদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ২টি জিপিএ-৫ সহ পাশের হার ৭৫.৫৩ নিয়ে ৭ম অবস্থান করেছে। আর অষ্টম অবস্থানে রয়েছে যশলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির এবারের পাশের হার ৭৩.৮৬ তবে কোন জিপিএ-৫ নেই। একটি জিপিএ-৫ সহ ৭৩.০৮ পাশের হার নিয়ে ৯ম অবস্থান করছে নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। উপজেলার একমাত্র সরকারী হলদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবার ১০ম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ৬৯.৭৯। কোন জিপিএ-৫ নেই। ১১তম অবস্থানে রয়েছে মেদিনী মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়। কোন জিপিএ-৫ ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৬২.৯১। সর্বশেষ ১২ তম অবস্থানে রয়েছে কলমা লক্ষিকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ৬৯.৯০। তবে প্রতিষ্ঠানটি হতে ৪টি জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এদিকে উপজেলার একমাত্র সরকারী হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টির মান বরাবরই ভাল ছিল। গতবারও এ বিদ্যালয়টির অবস্থায় উপজেলায় ৪র্থ ছিল। ২-১ বছর আগেও ছিল শত ভাগ পাশের রেকর্ড অথচ দুই বছর ধরে সরকারী হবার পর এ বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। সরকারী এ বিদ্যালয়টিতে এবারও ক্লাস সিক্সে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা চলে। সরকারী হওয়ায় বিদ্যালয়টির প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ বেড়ে যায়। কিন্ত এবারের এসএসসি ফলাফল অভিভাবকদের হতাশ করেছে।
আলাপ কালে স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, সেই একই বিদ্যালয়, একই শিক্ষক। তাহলে শিক্ষার মান খারাপ হচ্ছে কেন? তবে কি কমিটির দুর্বলতা। সরকারী হওয়ায় এটি সভাপতি এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি প্রশাসনিক কাজে বেশী ব্যস্থ থাকেন। তাই হয়তো বিদ্যালয়টির দিকে তেমন খেয়াল নিতে পারেননা। শিক্ষকরাও এখন সরকারী বেতন পান, তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের প্রতিও তাদের গুরুত্ব নেই। মাস গেলে সরকারী বেতন আসবেই। অথচ এর পূর্বে যখন বেসরকারী কমিটি ছিল, তখন বিদ্যালয়টি উপজেলার সর্বোচ্চ শিখরে পৌছে ছিল।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ দায় আমি কোনভাবেই এড়াতে পারিনা। এ দায় আমার। ফলাফল খারাপের কারণ খুঁজে বের করে শিক্ষার্থীরা যাতে আগামীতে ভাল করতে পরব সেই চেষ্টা করবো।