শংকর মেম্বার কারাগারে ॥ বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

চেক জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার শংকর ঘোষকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার লৌহজং থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত শংকর মেম্বার ও ব্যবসায়ী সাধন সরকারের স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারকে মুন্সীগঞ্জ আলাদতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। বিজ্ঞ আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করে শংকর ঘোষ ও ঝুমুর মজুমদারকে কারাগানে প্রেরণ করে। এর পূর্বে মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করে লৌহজং থানা পুলিশ।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের হলদিয়া বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সাধন সরকারের নামে সোনালী ব্যাংক হলদিয়া বাজার শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে। ওই হিসাব থেকে গত ২৪ মার্চ ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করে স্থানীয় হলদিয়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড মেম্বার শংকর চন্দ্র ঘোষ। ঘটনার কয়েক দিন পর সাধন সরকার তার একাউন্ট হতে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানতে পারে। এবং এ সময়ে সে শংকর মেম্বারের নিকট থেকে আপষে টাকা ফেরত পেতে দেন দরবার শুরু করে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। বরং কাগজ পত্র ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে আরো ভয়ংকর চিত্র। সাধনের ঘর থেকে তার স্ত্রী ঝুমুর সরকারের কাছে থেকে একটি দলিল বের হয়। তাতে দেখা যায় সাধনের হলদিয়া বাজারের দোকান ঘরখানি নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তার স্ত্রী’র নামে দান হিসেবে লিখে নেয়া হয়েছে। এবং দাতা স্বয়ং সাধন সরকার। আর স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছে শংকর মেম্বার ও জনৈক জহির। অথচ সাধন সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানতেননা।
পুলিশ তদন্তে এসে দেখতে পায়, শংকর মেম্বার তার নিজ জিম্বায় চেকের পেছনে স্বাক্ষর ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে ব্যাংক থেকে সাধন সরকারের স্বাক্ষর জাল করে ১২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে। তাছাড়া যে দলিলে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে দোকান ঘরটি দান করা হয়েছে সেখানে সংকর মেম্বারের স্বাক্ষর রয়েছে। পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে শংকর মেম্বার জানিয়েছে সে স্বাক্ষরটি তারই। এবং সে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়েছিল। তার এ কথায় পুলিশ হতচকিত হয়েছে। কারণে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সাদা স্ট্যাম্পে কি স্বাক্ষর দিতে পারে?
এ ব্যাপারে সাধণ সরকার জানিয়েছেন, আমার চেক বই ও ব্যাংকের কাগজ পত্র সাধারণত দোকানেই থাকে। কিছু দিন পূর্বে আমার কাছে একটা ফোন আসে,‘বাজারের বিভিন্ন দোকানে চুরি হচ্ছে। এর পর তোমার দোকান টার্গেট। তাই দোকানে জরুরী কিছু থাকলে বাড়িতে নিয়ে রাখো।’ এ কথায় আমি আমার ব্যাংক একাউন্টের চেক বই ও একটি ডিপজিটের সব কাগজ পত্র বাড়িতে নিয়ে যাই। বাড়ি থেকে কিভাবে আমার চেক শংকর মেম্বারের কাছে গেলো তা বুঝতে পারছিনা। ধারণা করছি আমার স্ত্রী’র সাথে যোগসাজস করে শংকর মেম্বার আমার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় প্রাপক হিসেবে আমার স্ত্রী’র নাম ব্যবহার করা হয়েছে। চেকে আমি কোন স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। কিছু দিন পূর্বে আমার স্ত্রী’র ন্যাশনাল আইডি কার্ডে নাম সংশোধনের জন্য আমি স্বাক্ষর দিয়েছিলাম। ধারণা করছি সেখান থেকে শংকর মেম্বার আমার স্বাক্ষর কপি বা জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছে। শংকর মেম্বার বলছে আমার স্ত্রী নাকী চেক নিয়ে এসেছিল। যদি তাই হয়, তবে মাত্র ১-২ মিনিটের পথ ব্যাংক থেকে আমার দোকান। আমরা তিন ভাই দোকানে কাজ করি। আমাদের কাছে সে নিজে যেতে পারতো। বা ফোন অথবা কাউকে পাঠিয়ে খবর দিতে পারতো। এ থেকে ধারণা করছি আমার টাকা এ মেম্বারেই জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নিয়েছে। তাছড়া আমার ফিক্স ডিপজিটের টাকাও তুলে নিতে ব্যাংকে গিয়েছিল এই মেম্বার।
এামলার আয়ু লৌহজং থানার এসআই মো. আবু বক্কর জানান, রিমান্ড পেলে মামলার আরো অগ্রগতি হবে। দোকানঘরটি কিভাবে নোটারী করলো তা সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে। তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।
লৌহজং থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়বীয় জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা সাথে শংকর মেম্বারের জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেছে। যেভাবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হয়েছে, তাতে পরবর্তীতে ঘটনা অন্য রকমক ঘটতে পারতো। ১২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে মেম্বার, ডিপোজিটের টাকা তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, তাছাড়া নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বাজারের দোকান ঘরটি জালিয়াতির মাধ্যমে দান দেখানো হয়েছে। যাতে স্বাক্ষী ছিল ওই মেম্বার। সুতরাং ডিপোজিটের টাকা তুলতে পারলে ব্যবসায়ী সাধনকে গুম-খুনও করা হতো পারতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মামলা হবার পর গ্রেপ্তারকৃত আসামী আসামী শংকর মেম্বার ও সাধণের স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার আদালতে হাজির করলে আদালত বৃহস্পতিবার ৭ এপ্রিল রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রেখেছে।#