শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পরীক্ষামূলক ফেরি চালু

81

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি॥

টানা ৪৬ দিন বন্ধ থাকার পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে আবারো পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১ টায় টানা দেড় মাস পরে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষের একটি টিম নিয়ে কেটাইপ ফেরি কুঞ্জলতা ১৭ টি ছোট গাড়ী ও ২০ টি মোটরসাইকেলসহ শিমুলিয়া ঘাট থেকে বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এদিকে ফেরী চলাচলের আগাম খবরে মহা সড়কে ও ঘাট এলাকায় শতাধীক পন্যবাহী ট্রাক এসে জমা হয়।
সোমবার থেকে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে চলেছে। পন্য পরিবহনেও ব্যবসায়ীরা সহজ পথে দ্রুত সময়ে মালামাল পরিবনে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে। ফেরি চালু হবার খবরে যাত্রী, পরিবহন মালিক ও ঘাট সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের মাঝে শস্তি ফিরে আসেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ পরিবহন সংস্থা’র (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ তাজুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞ টিম দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটটি পরিদর্শন শেষে পদ্মায় স্রোতের গতি ফেরি চলাচল উপযোগী বলে মনে করেছেন। তাই সোমবার পরীক্ষামুলকভাবে এই নৌরুটে ফেরি চালুর এই সিদ্ধান্ত হয়। এই টিম বিআইডব্লিউটিএ’র ক্রেনবোট ধরলা-১৭ করে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র প্রতিনিধি দলের সমন্বয়ে পদ্মাসেতু এলাকা পরিদর্শন করা হয়। ০ত শনিবার পদ্মা সেতুর ২১ নম্বর খুঁটি বরাবর ১.৫ কিলোমিটার আপে লাল বয়াটি পনুঃস্থাপন করার করা হয়। এছাড়া সিদ্ধান্তমতে শিমুলিয়া থেকে ফেরিগুলো বাংলাবাজার যাবে ১৩-১৪ বা ১৪-১৫ নম্বর খুঁটির মধ্য দিয়ে। তবে টার্গেট থাকবে ১৪-১৫ নম্বর খুঁটির মাঝখান দিয়ে যাওয়া। আর বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়া আসার সময় ১৯-২০ বা ২০-২১ নম্বর খুঁিটর মধ্য দিয়ে। তবে টার্গেট থাকবে ১৯-২০ নম্বর খুঁটির মাঝখান দিয়ে চলাচলের।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির এজিএম শফিকুল ইসলাম জানান, কুঞ্জলতা ফেরিটি সফল ভাবে বাংলাবাজার যেতে পারলে ওপার থেকে ক্যামেলিয়া, কুমিল্লা ফেরীগুলোসহ অন্যান ছোট ফেরিগুলো চলাচল শুরু করবে।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশ পথ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে দীর্ঘদিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিড়ম্বনায় পড়ে এ পথে চলাচলকারীরা যাত্রী সাধারণ। উত্তাল পদ্মায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ছোট লঞ্চে ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়ি দিতে হয়েছে। তাও লঞ্চ চলে শুধু দিনে। রাতে পদ্মা পাড়ি দেয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না দীর্ঘদিন। ফলে জরুরী প্রয়োজনে পদ্মা পাড়ি দিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। এখন ফেরি চালুর খবরে খুশী এই পথে যাতায়াতকারীরা।
উল্লেখ্য পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে চলাচলকারী ফেরিগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একের পর এক পদ্মা সেতুর পিলােের ধাক্কা দিচ্ছিল। ফলে গেল ১৮ আগস্ট থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।#